বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২০২৬

Mostafizur Rahman
Mostafizur Rahman

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সাল একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

১৯৯১ সালের পর এই প্রথমবারের মতো একাধিক প্রার্থী রাষ্ট্রপতি পদে লড়াই করছেন, যা দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজ, ২০ আগস্ট ২০২৬, জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ২০২৬

এই নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয় ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই, যখন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয় ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই। ওই দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়ে যায় এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজন দেখা দেয়।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই সাংবিধানিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকে।

এর ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য থাকার কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হয়।

৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। তাই ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক দায়িত্ব বর্তায়।

এই সময়সীমার বিষয়টি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ এটি সাধারণ নির্বাচনের মতো সরাসরি জনগণের ভোটে অনুষ্ঠিত হয় না; বরং সংবিধান নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে এই তফসিল ঘোষণা করেন।

তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হয়। এর মাধ্যমে মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই এবং ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারিত হয়।

নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি

২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নির্বাচনী কর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের ওপর পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব বর্তায়।

তফসিল ও সময়সূচি

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ছিল নিম্নরূপ:

  • মনোনয়নপত্র দাখিল: ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত
  • মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই: ১৬ আগস্ট (রোববার), সকাল ১০টা থেকে
  • প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন: ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার), বিকেল ৪টা পর্যন্ত
  • ভোটগ্রহণ: ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার), দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী এই তফসিল প্রণয়ন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি, ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রার্থীরা: মুখোমুখি মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ

এই নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী অলি আহমদ।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নাম প্রস্তাব করেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তা অনুমোদন করেন।

মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নিযুক্ত হন।

তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করেছে অলি আহমদকে। উভয় প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই পর্বে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর যাচাইয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করেছে।

কীভাবে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। এই নির্বাচন সম্পন্ন হয় জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে। বর্তমান জাতীয় সংসদে সদস্য সংখ্যা ৩৪৯ জন, এবং তাঁরাই এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এই অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে।

এর অর্থ হলো, কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেন, তাহলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। ফলে দলীয় শৃঙ্খলার কারণে ভোটের ফলাফল অনেকাংশে সংসদে দলগুলোর আসন সংখ্যার সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে।

২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্ররা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। সংখ্যাতাত্ত্বিক এই সমীকরণের কারণেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করছেন।

ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া: প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট

এই নির্বাচনের একটি বিশেষ দিক হলো ভোটগ্রহণ পদ্ধতি। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন, যা সাধারণ জনগণের গোপন ব্যালট পদ্ধতির নির্বাচন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ২০ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে সার্বিক প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন যে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ অধিবেশন কক্ষেই ঘোষণা করা হবে, যার পরে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করবে।

কীভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন?

২০২৬ সালের ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রায় ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা

২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অলি আহমদ প্রার্থী হন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি একক প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে পরিণত হয়।

সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন

২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত নিয়মে ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।

এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর জয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের ভোটের পরিবর্তে সংসদে তাঁর সমর্থন কতটা রয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ

নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ভোটগ্রহণ শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। জাতীয় সংসদের সদস্যরা নির্বাচনে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট গণনা করা হয়।

মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার হিসেবে থাকলেও নির্বাচনে ৩৪৩টি ভোট পড়ে।

মির্জা ফখরুল পেলেন ২৫৫ ভোট

ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট

অর্থাৎ মির্জা ফখরুল তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১৬৭ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন।

প্রার্থী প্রাপ্ত ভোট
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫
অলি আহমদ ৮৮
মোট ভোট ৩৪৩

ভোটের ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়

কেন মির্জা ফখরুল বিজয়ী হলেন?

মির্জা ফখরুলের বিজয়ের প্রধান কারণ ছিল জাতীয় সংসদে তাঁর দলের শক্তিশালী অবস্থান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জনগণের পরিবর্তে সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়ায় সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এছাড়া দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানের বাইরে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্যদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল।

এই রাজনৈতিক ও সংসদীয় সমীকরণ শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়।

কেন ২০২৬ সালের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন

১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত একজন প্রার্থী থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

এ কারণে মির্জা ফখরুলের নির্বাচনকে শুধু নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘটনা হিসেবে নয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের কততম রাষ্ট্রপতি?

২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

তাঁর আগে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

উপসংহার

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন অলি আহমদ। ২০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ভোটে মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।

ফলে ১৬৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, যিনি আগামী দিনগুলোতে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

Mostafizur Rahman
Mostafizur Rahman

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top