Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and founder of Porikrama. He writes practical, reader-focused content on education, jobs, citizen services, travel, agriculture, technology and general lifestyle information. He focuses on accuracy, clarity, and creating useful content for Bangladeshi readers.
বাংলাদেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং লক্ষাধিক পেনশনভোগীর চোখ এখন অর্থ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে স্কেল জারির পর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হয়েছে।
বিগত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন বেতন কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিনের।
অবশেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরকে কেন্দ্র করে নবম জাতীয় পে স্কেল বা “পে স্কেল ২০২৬”-এর প্রজ্ঞাপন জারি এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার। সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সায় ও খসড়া অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি পুরো দেশের অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে এটি আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এই নিবন্ধে পে স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনের পটভূমি, সুপারিশকৃত প্রস্তাবনা, গ্রেডভিত্তিক বেতনের পরিবর্তন, আবাসন ও চিকিৎসা ভাতার আধুনিকায়ন, আইবাস++ সফটওয়্যারের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত সুসংহত ও সহজভাবে তুলে ধরব।
বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত স্কেলের তুলনামূলক তথ্যচিত্র

নিচের সারণিটিতে ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল এবং প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের পে স্কেলের প্রধান প্রধান গ্রেডের তুলনামূলক চিত্র প্রদর্শিত হলো:
| গ্রেডের নাম | ২০১৫ সালের মূল বেতন (টাকা) | ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত মূল বেতন (টাকা) | সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার (%) |
| গ্রেড-২০ | ৮,২৫০ | ২০,০০০ | ১৪২% |
| গ্রেড-১৬ | ৯,৩০০ | ২২,৫০০ – ২৩,০০০ | ১২২% |
| গ্রেড-১০ | ১৬,০০০ | ৩২,০০০ – ৩৫,০০০ | ১০৫% |
| গ্রেড-০৯ | ২২,০০০ | ৪২,০০০ – ৪৫,০০০ | ৯৫% |
| গ্রেড-০৫ | ৪৩,০০০ | ৬৫,০০০ – ৭০,০০০ | ৫৫% |
| গ্রেড-০১ | ৭৮,০০০ (স্থায়ী) | ১,৬০,০০০ (স্থায়ী) | ১০৫% |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চূড়ান্ত সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন জারির পর এই সংখ্যাগুলো সুনির্দিষ্ট আইনি রূপ লাভ করবে।
পে স্কেল ২০২৬-এর পটভূমি ও বর্তমান প্রশাসনিক অবস্থা
সাধারণত প্রতি পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর নতুন বেতন কমিশন গঠন করে স্কেল পুনর্নির্ধারণ করাই রাষ্ট্রীয় বিধান। তবে নানা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে ২০১৫ সালের পর আর কোনো নতুন পূর্ণাঙ্গ পে স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য সংসার চালানো ক্রমবর্ধমান কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই বাস্তবতায় গঠিত নতুন পে কমিশন বিস্তারিত মাঠপর্যায়ের গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি প্রস্তাবিত এই রূপরেখার সার্বিক আইনি ও আর্থিক দিক পর্যালোচনার পর নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গ্যাজেট যেকোনো সময় জারির জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ যাই হোক না কেন, নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেসিক চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকেই কার্যকরের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
মূল বেতন ও গ্রেড কাঠামোর সংস্কারের রূপরেখা
পে স্কেল ২০২৬-এর মূল দর্শন হলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আয়ের বৈষম্য দূর করা এবং সর্বনিম্ন বেতনের হার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
পূর্বের স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান ছিল, নতুন প্রস্তাবে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে নিম্নোক্ত মূল পরিবর্তনগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
সর্বনিম্ন বেতনে পরিবর্তন:
২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বিদ্যমান মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি।
সর্বোচ্চ বেতনের সমন্বয়:
১ম গ্রেডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ রাখা হয়েছে।
সমতাভিত্তিক অনুপাত:
১ম গ্রেড এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতনের অনুপাত ১:৮ ব্যবধানে নামিয়ে এনে নিম্নস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কৌশল:
এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ অর্থছাড় করলে রাজকোষ ও মূল্যস্ফীতির ওপর যে তাৎক্ষণিক ধাক্কা আসবে, তা সামলাতে দুই ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন (বেসিক) কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরে আনুষঙ্গিক ভাতাসমূহ যুক্ত হবে।
ভাতা, ইনক্রিমেন্ট ও পেনশন কাঠামোর যুগান্তকারী পরিবর্তন
কেবলমাত্র মূল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বরং সরকারি চাকরিজীবীদের দৈনন্দিন সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজন মেটাতে আনুষঙ্গিক বিভিন্ন ভাতাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি চলছে।
বাড়ি ভাড়া ভাতা:
জীবনযাত্রার ব্যয় অনুসারে এলাকাভিত্তিক (ঢাকা, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও উপজেলা) বৈষম্য বজায় রেখে মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করার সুপারিশ রয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সুবিধা:
সাধারণ কর্মচারীদের পাশাপাশি বিশেষ করে প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো হয়েছে। ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
উৎসব ও নববর্ষ ভাতা:
বাংলা নববর্ষ বা বৈশাখী ভাতা যা আগে মূল বেতনের ২০ শতাংশ ছিল, তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অবসরকালীন সুবিধা ও গ্র্যাচুইটি:
যারা পিআরএল (PRL) শেষে চূড়ান্ত অবসরে যাচ্ছেন, তাদের জন্য ‘লাস্ট ড্রন বেসিক’ বা সর্বশেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতেই নতুন পেনশন ও ছুটি নগদায়নের সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য ও আইবাস++ (iBAS++) চ্যালেঞ্জ
১৫ থেকে ২০ বছর আগের পে স্কেল বাস্তবায়নের সাথে বর্তমান পে স্কেল বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো এর আধুনিক ডিজিটালাইজেশন।
বর্তমানে সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, ভাতা, জিপিএফ (GPF), এবং পেনশন সরাসরি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) এবং সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি আইবাস++ (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
যদি পে স্কেল দুই ধাপে কার্যকর করা হয়, তবে আইবাস++ সিস্টেমে কোটি কোটি তথ্য পুনরায় পে-ফিক্সেশন (Pay Fixation) করতে হবে।
কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন পে-ফিক্সেশনে জটিলতা এবং সিস্টেমে ত্রুটি এড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয় বর্তমানে আইটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ সমন্বয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে গেজেট প্রকাশের সাথে সাথেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়া শুরু হতে পারে।
দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
পে স্কেল ২০২৬ প্রজ্ঞাপন জারির সিদ্ধান্ত যেমন সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে, তেমনি এটি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
রাজস্ব ব্যয়ের চাপ:
নতুন পে স্কেল পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করতে সরকারের বার্ষিক বাজেটে অতিরিক্ত ১ লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে, যা সাময়িকভাবে বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বাজার মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দাম:
নতুন পে স্কেলের ঘোঘণায় বাজারে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সুফল যেন সাধারণ ভোক্তাদের জন্য অভিশাপ না হয়, সেজন্য সরকারের কঠোর বাজার মনিটরিং ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কৌশল অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি:
সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পণ্য, সেবা ও আবাসন খাতে কেনাকাটা বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং রাজস্ব সংগ্রহে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
দীর্ঘ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার পর ২০২৬ সালের এই নতুন জাতীয় পে স্কেল সরকারি প্রশাসনে কাজের গতি, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রাক্কালে সরকারের সুষম অর্থনৈতিক নীতি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পদক্ষেপ এবং সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনাই পারবে এই পে স্কেলকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য কল্যাণকর করে তুলতে।

Mostafizur Rahman
Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and founder of Porikrama. He writes practical, reader-focused content on education, jobs, citizen services, travel, agriculture, technology and general lifestyle information. He focuses on accuracy, clarity, and creating useful content for Bangladeshi readers.
- Latest Posts by Mostafizur Rahman
-
টেলিটক সিমের দাম: বর্ণমালা, জেন-জি, অপরাজিতা, আগামী ও অন্যান্য
- -
১৯তম NTRCA পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি কৌশল
- -
মুরগির ডিমের উপকারিতা: দেশি, ব্রয়লার
- All Posts
