বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। বিশেষ করে
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ গ্রেডের (তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভার নম্বর বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সাথে লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর বিষয়েও নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানা গেছে।
সরকারের এই নতুন চিন্তাভাবনার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি প্রশাসনে অধিকতর দক্ষ, যোগ্য, উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন এবং বাস্তবে কাজের উপযোগী জনবল নিয়োগ করা। তবে মাঠপর্যায়ের চাকরিপ্রার্থী এবং প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের একাংশের মনে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কার সুর ভেসে উঠেছে।
এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব- সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মূল প্রেক্ষাপট, সম্ভাব্য কারণ, এর সুবিধা ও অসুবিধা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের যেভাবে ভাইভার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর মূল প্রেক্ষাপট
সরকারি চাকরির নিয়োগ নীতিমালায় ভাইভার নম্বর কত হবে, তা এতদিন বিভিন্ন ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের ক্ষেত্রভেদে নির্ধারিত থাকত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ভাইভার ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়ার একটি জোরালো প্রস্তাব সামনে এসেছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল লিখিত পরীক্ষার সনাতনী খাতা মূল্যায়নের মাধ্যমে একজন প্রার্থীর প্রশাসনিক ক্ষেত্রভিত্তিক প্রকৃত পারদর্শিতা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয় না।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করেন। তাই তাদের আচার-আচরণ, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
এই পটভূমি থেকেই ১১ থেকে ২০ গ্রেডে ভাইভার নম্বর বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষার পাস মার্ক শিথিল করে ভাইভা বোর্ডে তুলনামূলক বেশি প্রার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
অবশ্য বিসিএস বা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) পরিচালিত উচ্চতর ক্যাডার পদগুলোর ক্ষেত্রে নম্বর বণ্টন ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ,
বিসিএস পরীক্ষায় বর্তমানে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ৯০০ নম্বরের লিখিত এবং ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা প্রচলিত আছে। ফলে চলমান আলোচনার সিংহভাগ প্রভাব মূলত নিম্ন-মধ্যম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদগুলোর ওপর পড়তে যাচ্ছে।
সরকারের এই ভাবনার নেপথ্যে সম্ভাব্য কারণসমূহ
লিখিত পরীক্ষার চেয়ে বা লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক ও প্রশাসনিক কারণ কাজ করছে:
ক. প্রার্থীর সার্বিক ও অলরাউন্ডার দক্ষতা যাচাই
লিখিত পরীক্ষা সাধারণত মুখস্থবিদ্যা, নির্দিষ্ট সিলেবাসের তথ্য সংগ্রহ ও লিখিত রূপ দেওয়ার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু একজন সরকারি চাকুরিজীবীর শুধু পুস্তকগত জ্ঞান থাকলেই চলে না। তার মধ্যে নিচের গুণাবলি থাকা আবশ্যক:
-
সাবলীল ও স্পষ্ট যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skills)।
-
আত্মবিশ্বাস ও পেশাদারিত্ব।
-
যেকোনো সংকটে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপস্থিত বুদ্ধি (Problem Solving & Quick Thinking)।
-
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মতো নম্র ও মার্জিত আচরণ।
-
নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধ।
এই মানবিক ও আচরণগত দিকগুলো কেবল একটি মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি করলেই সঠিকভাবে পরিমাপ করা সম্ভব।
খ. বাস্তবমুখী ও সেবামুখী জনবল গঠন
১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের পদে নিযুক্ত কর্মচারীদের প্রতিদিন শত শত সাধারণ নাগরিকের মুখোমুখি হতে হয়। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে, সরকারি নিয়মকানুন অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে জনসেবা সহজ করা যায়—এগুলো ভাইভা বোর্ডে সরাসরি প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করা সহজ।
গ. মুখস্থভিত্তিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভরতা হ্রাস
অনেক সময় প্রার্থীরা কেবল বিভিন্ন গাইড বই মুখস্থ করে লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়ে যান, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে ফাইল নোট লেখা, কম্পিউটার চালনা বা যোগাযোগের সময় তাদের দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
ভাইভায় নম্বর বাড়ালে প্রার্থীরা শুধু লিখিত পরীক্ষার মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মেধা, ব্যক্তিত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে মনোযোগ দেবেন।
লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর পরিকল্পনা ও তার তাৎপর্য
ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি আলোচনায় আসা অপর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো লিখিত পরীক্ষায় পাসের জন্য নির্ধারিত নম্বর কমিয়ে আনা।
যদি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানো হয়, তবে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে অনুপাতিক পাসের হারের ওপর। এর ফলে:
১. অধিক সংখ্যক প্রার্থীর ভাইভা দেওয়ার সুযোগ:
লিখিত পরীক্ষায় কড়া কাট-অফ মার্কসের কারণে যে অনেক যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থী বাদ পড়ে যেতেন, তারা ভাইভা বোর্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন।
২. চূড়ান্ত ফলাফলে ভারসাম্য:
কেবল লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে শীর্ষস্থান অর্জনের সংস্কৃতি কিছুটা হ্রাস পাবে। লিখিত এবং মৌখিক- দুই ধাপে গড়ে ভালো করা প্রার্থীরাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন।
তবে এটি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট নিয়ম ও কাঠামো কেমন হবে, তা সংশোধিত বিধিমালা ও পরবর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে।
ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সম্ভাব্য সুফল
যদি স্বচ্ছতার সাথে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা যায়, তবে সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থার জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ফলাফল আশা করা যায়:
-
যোগ্য ও সংবেদনশীল প্রার্থী বাছাই: প্রশাসনিক কাঠামোতে এমন ব্যক্তিরা প্রবেশ করবেন যাদের সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার মানসিকতা ও চমৎকার ব্যবহারের দক্ষতা রয়েছে।
-
যোগাযোগ দক্ষতার প্রসার: চাকরিপ্রার্থীরা এখন থেকে কেবল লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র ভরার পেছনে সময় নষ্ট না করে ইংরেজি ও বাংলায় কথা বলার দক্ষতা, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও ব্যক্তিত্ব উন্নয়নে মনোযোগী হবেন।
-
ব্যবহারিক জ্ঞানের প্রসার: তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিশ্ব, তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসন সম্পর্কিত ব্যবহারিক জ্ঞানে তরুণদের আগ্রহ বাড়বে।
স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগ
ভাইভার নম্বর বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুভাকাঙ্ক্ষী ও চাকরিপ্রার্থীদের মূল দুশ্চিন্তার জায়গাটি হলো স্বচ্ছতা ও স্বজনপ্রীতি।
লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র কোডিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গোপন রেখে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব, যেখানে পরীক্ষকের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সুযোগ কম থাকে। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর উপস্থিতি ও উত্তরের ওপর ভিত্তি করে নম্বর দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা আপেক্ষিক (Subjective)। ফলে আশঙ্কা থাকে যে:
কীভাবে এই উদ্বেগ নিরসন সম্ভব?
সরকারকে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন কাঠামো তৈরি করতে হবে। যেমন:
১. অভিন্ন মূল্যায়নের রূপরেখা (Standardized Rubrics): ভাইভা বোর্ডে প্রতিটি ক্যাটাগরির (যেমন: পোশাক ও মার্জিত ভাব, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, সাম্প্রতিক তথ্য, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ) জন্য আলাদা নম্বর ভাগ করে রাখা।
২. বহুপাক্ষিক বোর্ড গঠন: ভাইভা বোর্ডে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রতিনিধি এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা।
৩. রেকর্ডিং বা সিসিটিভি নজরদারি: ভাইভা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং বা অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
ভাইভার নম্বর বাড়লে চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতিতে কী পরিবর্তন আসবে?
নিয়োগ পদ্ধতির সম্ভাব্য এই পরিবর্তনে চাকরিপ্রার্থীদের নিজেদের প্রস্তুতির কৌশলেও আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। কেবল বই পড়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিলেই এখন আর চূড়ান্ত সফলতা নিশ্চিত করা যাবে না।
প্রার্থীর যেসব বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন:
| প্রস্তুতির ক্ষেত্র |
কী কী বিষয় নজর দিতে হবে |
| নিজের শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড |
নিজ পঠিত বিষয় (Major Subject), এর মৌলিক ধারণা ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা। |
| আবেদিত পদের দায়িত্ব |
যে পদের জন্য আবেদন করেছেন, সেই পদের অর্পিত দায়িত্ব, কাজ ও অর্গানোগ্রাম। |
| জাতীয় ও প্রশাসনিক বিষয় |
বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, সাম্প্রতিক মেগা প্রজেক্ট ও সরকারি পলিসি। |
| নিজ জেলা ও উপজেলা |
নিজ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থানীয় পরিচিতি। |
| সাধারণ প্রযুক্তি ও আইসিটি |
কম্পিউটার পরিচালন সংক্রান্ত মৌলিক জ্ঞান, দৈনন্দিন প্রযুক্তির ব্যবহার। |
| পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্ন (Scenario-based) |
কোনো জটিল প্রশাসনিক চাপ বা সংকট তৈরি হলে কীভাবে তা সামলাবেন সেই বুদ্ধিমত্তা। |
নতুন ধারার ভাইভা প্রস্তুতির কার্যকরী কৌশল
পরিবর্তিত ধারার সাথে মানিয়ে নিতে চাকরিপ্রার্থীরা দৈনন্দিন রুটিনে কিছু বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন:
১. কথা বলার জড়তা কাটানো: প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বা ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ড করে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে ২-৩ মিনিট কথা বলার অভ্যাস করুন। এটি চোখের যোগাযোগ (Eye Contact) ও চেহারার ভাবভঙ্গি শুধরাতে সাহায্য করে।
২. মক ভাইভা (Mock Viva) দেওয়া: বন্ধু-বান্ধব বা অভিজ্ঞদের নিয়ে ছোট স্টাডি গ্রুপ তৈরি করে নিয়মিত কৃত্রিম ভাইভা বোর্ডের আয়োজন করুন। এতে আসল ভাইভা বোর্ডের ভয় ও নার্ভাসনেস কেটে যায়।
৩. দৈনিক পত্রিকা পাঠ ও নিজস্ব মতামত তৈরি: শুধু সাম্প্রতিক তথ্য মুখস্থ না করে, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনার ওপর নিজের একটি সুচিন্তিত নিরপেক্ষ মতামত গঠনের চর্চা করুন।
৪. উত্তর গুছিয়ে উপস্থাপন: যেকোনো প্রশ্নের উত্তর সরাসরি, সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যবহুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করতে হবে। কোনো উত্তর জানা না থাকলে ভুল না বকে বিনয়ের সাথে “জানা নেই” স্বীকার করার সাহস গড়ে তুলতে হবে।
ভাইভার নম্বর বাড়লে কি লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমবে?
অনেকের ধারণা হতে পারে যে, ভাইভায় নম্বর বাড়লে হয়তো লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব একেবারে কমে যাবে। কিন্তু এই ধারণাটি সঠিক নয়।
সরকারি চাকরির বাছাই প্রক্রিয়ার প্রথম এবং প্রধান ছাঁকন প্রক্রিয়া হলো লিখিত পরীক্ষা। সেখানে উত্তীর্ণ না হলে ভাইভা বোর্ডে যাওয়ারই কোনো সুযোগ থাকে না। বিসিএসের মতো মেগা পরীক্ষাগুলোতে ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার বিপরীতে ভাইভার নম্বর ২০০, অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষার প্রাধান্য এখনও শতভাগ বজায় আছে। সুতরাং, লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর অর্জন করাই চূড়ান্ত তালিকার শীর্ষে থাকার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে, আর ভাইভা সেই ভিত্তির ওপর অতিরিক্ত প্রাধান্য নিশ্চিত করবে।
সরকারের পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে প্রার্থীদের জন্য চূড়ান্ত পরামর্শ
যেকোনো নতুন নীতি বা সংস্কারের খবরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের উচিত:
-
বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দিয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (যেমন: BPSC বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়) এবং সরকারি প্রজ্ঞাপনের ওপর নজর রাখা।
-
নতুন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পেলে সেটির নম্বর বণ্টন ও নির্দেশাবলী মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলা।
-
লিখিত প্রস্তুতির সাথে সাথে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুধাবনে ব্যয় করা।
উপসংহার
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো সনাতনী পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে অধিকতর বাস্তবমুখী ও জনসংযোগমুখী জনবল তৈরি করা।
যদি এই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং স্বজনপ্রীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি বাংলাদেশের সরকারি সেবা খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
পরিবর্তন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চাকরিপ্রার্থীদের উচিত হতাশ না হয়ে নিজেদের মেধা, বাস্তব জ্ঞান এবং উপস্থাপন দক্ষতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। কারণ, সঠিক কৌশল ও সময়োপযোগী প্রস্তুতির মাধ্যমে যেকোনো পরিবর্তিত নিয়মকেই সাফল্যের সিঁড়িতে রূপান্তর করা সম্ভব।