Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and founder of Porikrama. He writes practical, reader-focused content on education, jobs, citizen services, travel, agriculture, technology and general lifestyle information. He focuses on accuracy, clarity, and creating useful content for Bangladeshi readers.
অতীতে সার্টিফিকেট সংশোধন করা ছিল এক দীর্ঘ ও ভোগান্তিময় প্রক্রিয়া। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে এখন ঘরে বসেই শিক্ষা বোর্ডের ই-সেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে অনলাইনে সার্টিফিকেট নাম সংশোধন করা সম্ভব।
শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে আমাদের অর্জিত সার্টিফিকেটগুলো অত্যন্ত মূল্যবান দলিল। উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা সরকারি যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে এই সনদপত্রগুলো প্রাথমিক পরিচয় বহন করে।
কিন্তু কোনো কারণে যদি মাধ্যমিক (SSC), উচ্চমাধ্যমিক (HSC) কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে নিজের নাম, পিতার নাম বা মাতার নামে ভুল থেকে যায়, তবে পরবর্তীতে নানা জটিলতায় পড়তে হয়।
এই ব্লগে অনলাইনে সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি, অ্যাফিডেভিট, পত্রিকা বিজ্ঞাপন এবং সার্টিফিকেট তোলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সার্টিফিকেট নাম সংশোধনের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি ও আইনি পদক্ষেপ
অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে আপনাকে দুটি আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এগুলো অনলাইনে আপলোড করার জন্য অপরিহার্য।
ক. কোর্ট অ্যাফিডেভিট (Affidavit) তৈরি
নাম সংশোধনের জন্য প্রথম কাজ হলো একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একশ বা তিনশ টাকার স্ট্যাম্পে একটি অ্যাফিডেভিট করা।
-
পদ্ধতি: হাইকোর্ট বা জজ কোর্টের রেজিস্টার্ড আইনজীবীর মাধ্যমে এই অ্যাফিডেভিট তৈরি করা যায়।
- বিষয়বস্তু: অ্যাফিডেভিটে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে যে, সার্টিফিকেটে ভুলবশত নাম (যেমন: “Md. Karim”) লেখা হয়েছে, কিন্তু আপনার সঠিক নাম (যেমন: “Mohammad Karim”) এবং এটি সংশোধনের আবেদন করা হচ্ছে।
খ. জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপন (Classified Ad)
অ্যাফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের যেকোনো বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় একটি সংশোধন বিজ্ঞাপন দিতে হবে।
বিজ্ঞাপনের ফরম্যাট: “আমার SSC/HSC রোল নং…, রেজিস্ট্রেশন নং…, শিক্ষা বোর্ড…, সনদে আমার/পিতার/মাতার নাম ভুলবশত… লেখা হয়েছে। প্রকৃত নাম হবে…। – [আপনার নাম ও ঠিকানা]”।
সতর্কতা: পত্রিকা প্রকাশের পর ওই মূল পত্রিকার কাটিং বা পাতাটি যত্ন করে রেখে দিন, কারণ এর স্ক্যান কপি অনলাইনে জমা দিতে হবে।
সার্টিফিকেট নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় নির্দিষ্ট আকারের (সাধারণত JPEG/PDF ফরম্যাটে) স্পষ্ট স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
- ১. মূল সার্টিফিকেট, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (মার্কশিট) ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের স্ক্যান কপি।
- ২. নোটারি পাবলিক বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সম্পাদিত মূল অ্যাফিডেভিটের স্ক্যান কপি।
- ৩. পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের মূল কাটিংয়ের স্ক্যান কপি।
- ৪. পরীক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন সনদ (Digital Online Birth Certificate)।
- ৫. পরীক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) (যদি থাকে)।
- ৬. পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং তাদের সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
- ৭. নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের (প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ) সুপারিশপত্র বা নাম সংশোধনের প্রত্যয়নপত্র।
সার্টিফিকেট নাম সংশোধনে অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ), কারিগরি বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। প্রক্রিয়াগুলো প্রায় একই রকম।
ধাপ ১: শিক্ষা বোর্ডের পোর্টালে প্রবেশ
আপনার নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান (যেমন: ঢাকা বোর্ডের জন্য efile.dhakaeducationboard.gov.bd বা চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য নির্দিষ্ট পোর্টাল)। মেনু থেকে “Online Application” বা “নাম ও বয়স সংশোধন” বিকল্পটি নির্বাচন করুন।
ধাপ ২: অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন বা রোল-রেজিস্ট্রেশন ইনপুট
যে সনদের নাম সংশোধন করতে চান, সেটির Exam Name (JSC/SSC/HSC), Passing Year, Roll Number এবং Registration Number প্রবেশ করিয়ে সিস্টেমে লগইন করুন। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার তথ্য দেখাবে।
ধাপ ৩: আবেদনের ধরণ সিলেক্ট ও তথ্য সংশোধন
আবেদনের ধরণ: “নাম সংশোধন” (Name Correction) অপশন বাছাই করুন।
সঠিক তথ্য প্রদান: বক্সে আপনার সার্টিফিকেটে বর্তমানে থাকা ভুল নাম প্রদর্শিত হবে। তার পাশে থাকা ঘরে সঠিক বানানটি নির্ভুলভাবে টাইপ করুন।
মোবাইল নম্বর: আপনার সচল মোবাইল নম্বর দিন। বোর্ডের সমস্ত বার্তা ও ট্র্যাকিং কোড এই নম্বরেই আসবে।
ধাপ ৪: ডকুমেন্ট আপলোড
পূর্বপ্রস্তুতকৃত স্ক্যান কপিগুলো (অ্যাফিডেভিট, পেপার কাটিং, জন্ম সনদ, পিতা-মাতার NID ইত্যাদি) নির্ধারিত ফিল্ডে আপলোড করুন। ফাইল সাইজ সাধারণত ১০০-৩০০ KB এর মধ্যে হতে হয়।
ধাপ ৫: ফর্ম সাবমিট ও সোনালী সেবা স্লিপ
আবেদন সাবমিট করার পর সিস্টেমে একটি Application ID বা Tracking Number তৈরি হবে। একই সাথে ফি জমা দেওয়ার জন্য একটি সোনালী সেবা (Sonali Sheba) স্লিপ জেনারেট হবে।
সার্টিফিকেট নাম সংশোধন ফি ও পরিশোধ পদ্ধতি
| বিবরণ | ফি (প্রতিটি সনদের জন্য) |
| নাম সংশোধন ফি (বোর্ড ফি) | ৫০০ – ৬০০ টাকা (যেমন: ঢাকা বোর্ডে প্রতি সনদ ৫৫৮ টাকা) |
| নতুন ফ্রেশ সার্টিফিকেট উত্তোলন | ৫০০ – ৬০০ টাকা |
| নতুন মার্কশিট/রেজিস্ট্রেশন কার্ড | ২০০ – ৩০০ টাকা |
| পত্রিকা বিজ্ঞাপন ও অ্যাফিডেভিট (আইনি খরচ) | ১৫০০ – ২৫০০ টাকা (পত্রিকা ও নোটারি ভেদে) |
ফি পরিশোধের উপায়
সোনালী সেবা স্লিপ ডাউনলোড করে সরাসরি সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় জমা দেওয়া যায়। অথবা অনলাইন গেটওয়ে ব্যবহার করে bKash, Nagad, Rocket, Visa/Mastercard এর মাধ্যমে ঘরে বসেই ফি পরিশোধ করা সম্ভব। ফি জমা দেওয়ার পর পেমেন্ট রিসিপ্টটি সংরক্ষণ করুন।
আবেদন পরবর্তী প্রক্রিয়া ও বোর্ড মিটিং
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন:
অনলাইন আবেদন সাবমিট করার পর আপনার স্ব-স্ব স্কুল বা কলেজের প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষের প্যানেলে আবেদনটি যায়। প্রতিষ্ঠান প্রধান তাদের ইউজার আইডি দিয়ে লগইন করে আবেদনটি ফার্স্ট অ্যাপোভাল (Forwarding) করবেন।
২. বোর্ডের মিটিং ও শুনানি (Hearing):
আবেদনটি বোর্ডে পৌঁছালে একটি নির্দিষ্ট তারিখে আপনাকে ও প্রয়োজনবোধে আপনার অভিভাবককে শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হতে বলা হতে পারে (সব ক্ষেত্রে মিটিংয়ে ডাকা হয় না, ছোট ভুলের ক্ষেত্রে অনলাইন নথি দেখেই অনুমোদন দেওয়া হয়)।
৩. অনুমোদনের এসএমএস (SMS Alert):
বোর্ডের কমিটি নাম সংশোধনের আবেদন মঞ্জুর করলে আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে “Application Approved” নিশ্চিতকরণ বার্তা আসবে।
নতুন ফ্রেশ সার্টিফিকেট (Fresh Document) যেভাবে তুলবেন
নাম সংশোধনের অনুমোদন পাওয়া মানেই কাজ শেষ নয়। এর মানে বোর্ডের ডাটাবেজে আপনার নাম ঠিক হয়েছে। এবার নতুন নামযুক্ত মূল শারীরিক সনদপত্রটি সংগ্রহ করতে হবে।
ধাপ ১: বোর্ডের ই-সেবা পোর্টালে আবার লগইন করুন এবং “Fresh Document Issue” বা “ডকুমেন্ট উত্তোলন” সেকশনে যান।
ধাপ ২: ফ্রেশ সার্টিফিকেট, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও নতুন রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করুন।
ধাপ ৩: ধার্যকৃত ফি (সোনালী সেবার মাধ্যমে) পরিশোধ করুন।
ধাপ ৪: নির্ধারিত তারিখে আপনার পুরনো মূল সার্টিফিকেট ও মার্কশিট নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে জমা দিতে হবে। পুরনো সনদ জমা নিয়ে আপনাকে নতুন নামযুক্ত সংশোধনকৃত ফ্রেশ সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট নাম সংশোধন
আপনার যদি স্নাতক (Honours) বা স্নাতকোত্তর (Masters) বা কোনো পাবলিক/প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন করতে হয়:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (NU):
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তাদের অনলাইন সার্ভিস পোর্টালে (Services Portal) গিয়ে প্রথমে SSC ও HSC-এর সংশোধিত কপি আপলোড করতে হয়। এরপর নির্ধারিত ফি প্রদান করে রেজিস্টার্ড ডাকে বা সরাসরি গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে সংশোধিত সনদ নিতে হয়।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়:
সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (Controller of Examinations) শাখায় এসএসসি/এইচএসসি-এর সংশোধিত সনদ ও অ্যাফিডেভিট জমা দিয়ে নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হয়।
সচরাচর ভুল ও সাধারণ পরামর্শ
-
বানানের সতর্কতা: বাংলায় ও ইংরেজিতে নামের বানানের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। ক্যাপিটাল লেটার ও স্মল লেটারের ব্যবহার সঠিক করুন।
- পিতা-মাতার নাম মিল রাখা: নিজের নাম পরিবর্তনের সময় পিতা-মাতার নাম যাতে তাদের NID-এর সাথে হুবহু মিলে, সেদিকে নজর রাখুন।
- পর্যায়ক্রমিক সংশোধন: আপনার যদি SSC, HSC এবং Degree/Honours সবগুলোতে ভুল থাকে, তবে শুরুতেই এসএসসি (SSC) সংশোধন করতে হবে। কারণ এসএসসি সনদকে মূল ভিত্তি ধরা হয়। এসএসসি ঠিক না করে পরবর্তী কোনো সনদ সংশোধন করা যায় না।
- দালাল চক্র থেকে সাবধান: অনলাইনে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সহজ। বোর্ডের অফিশিয়াল নির্দেশিকা মেনে নিজে আবেদন করুন, অসাধু ব্যক্তির খপ্পরে পড়বেন না।
উপসংহার
অনলাইনে সার্টিফিকেট নাম সংশোধন প্রক্রিয়া কিছুটা দীর্ঘ হলেও সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে কোনো ঝমেলা ছাড়াই সফলভাবে সনদ সংশোধন করা সম্ভব।
প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রের ঘাটতি না থাকলে সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়ে থাকে। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদগুলো সঠিক রেখে নিশ্চিন্তে আগামীর ক্যারিয়ার গড়ুন।

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and founder of Porikrama. He writes practical, reader-focused content on education, jobs, citizen services, travel, agriculture, technology and general lifestyle information. He focuses on accuracy, clarity, and creating useful content for Bangladeshi readers.
- Latest Posts by Mostafizur Rahman
-
টেলিটক সিমের দাম: বর্ণমালা, জেন-জি, অপরাজিতা, আগামী ও অন্যান্য
- -
১৯তম NTRCA পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি কৌশল
- -
মুরগির ডিমের উপকারিতা: দেশি, ব্রয়লার
- All Posts
