ডাকসুর মেয়াদ শেষ, নির্বাচন যখন

Mostafizur Rahman
Mostafizur Rahman

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি, অধিকার, কল্যাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নানা বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে ডাকসুর ভূমিকা রয়েছে।

বর্তমান ডাকসু কমিটির নিয়মিত এক বছরের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে নতুন নির্বাচন এখনো অনুষ্ঠিত না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে- ডাকসুর নির্বাচন কখন হবে এবং নতুন কমিটি কবে দায়িত্ব নেবে?

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাকসুর গঠনতন্ত্রে থাকা মেয়াদ-সংক্রান্ত বিধানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত মেয়াদ শেষ হলেও নির্দিষ্ট শর্তে বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে এই অতিরিক্ত সময়ে তাঁদের কার্যক্রমের পরিধিও সীমিত থাকে।

ডাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ

ডাকসুর বর্তমান কমিটির নিয়মিত এক বছরের মেয়াদ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পূর্ণ হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ৩৬৫ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন নির্বাচন না হওয়ায় এখন গঠনতন্ত্রের অতিরিক্ত সময়ের বিধান কার্যকর হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিত পদাধিকারীরা ৩৬৫ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বর্তমান নির্বাচিত সদস্যরা সর্বোচ্চ আরও ৯০ দিন দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।

তবে বিষয়টি সরাসরি আরও তিন মাসের জন্য পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার মতো নয়। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের কার্যক্রম মূলত রুটিন ও প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা।

গঠনতন্ত্রে ৯০ দিনের বিধান

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (গ) উপধারায় নির্বাচিত পদাধিকারীদের মেয়াদ সম্পর্কে বিধান রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাঁদের দায়িত্বের নিয়মিত মেয়াদ ৩৬৫ দিন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে নির্বাচিত সদস্যরা অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিন অথবা নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে, ততদিন দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

অর্থাৎ ৯০ দিন কোনো বাধ্যতামূলক নতুন মেয়াদ নয়। এর আগেই যদি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে নতুন নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুযায়ী বর্তমান কমিটির দায়িত্ব শেষ হবে।

অন্যদিকে, ৯০ দিনের মধ্যেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী ডাকসু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

অতিরিক্ত সময়ে কী করতে পারবেন বর্তমান নেতারা?

নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমান ডাকসু নেতাদের দায়িত্বের পরিধি আগের মতো থাকবে না। এই সময়ে তাঁরা মূলত রুটিন ও অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ডাকসু নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে না।

ইতিমধ্যে অনুমোদিত বা স্বাক্ষর করা হয়েছে এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পন্ন থাকলে, সেটি সম্পন্ন করার প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে কোনো কাজ আটকে গেলে প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হতে পারে—এমন ক্ষেত্রে তাঁরা প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

তবে নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এর ফলে নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ডাকসুর কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে।

ডাকসু নির্বাচন যখন হবে?

এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন ডাকসু নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ বা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেনি। ফলে ঠিক কোন দিনে ভোট হবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

বর্তমান ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বা মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী তারিখ জানানো হয়নি। ফলে ডাকসু নির্বাচন যখন হবে- এর সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো ঘোষণা করা হয়নি

দ্রুত নির্বাচনের দাবি বর্তমান কমিটির

নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ডাকসুর বর্তমান নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান।

১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। উপাচার্য চীন সফরে থাকায় তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ সম্ভব হয়নি। পরে ডাকসুর নেতারা সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর সঙ্গে কথা বলেন।

সাক্ষাৎ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান কমিটির নিয়মিত এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা না হলে বর্তমান কমিটির দায়িত্ব আরও তিন মাস পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান নেতারা এই অতিরিক্ত সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে চান না। তাঁদের দাবি, দ্রুত নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ভোটের আয়োজন করা হোক।

প্রশাসনের নির্বাচনী প্রস্তুতি কী?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তারা আন্তরিক। তবে নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রভোস্টদের বলা হয়েছে, তাঁরা যেন নিজ নিজ হলে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাঁদের মতামত ও প্রস্তাব প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন।

এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গেও প্রশাসন আলাদাভাবে আলোচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।

সব ছাত্রসংগঠনের অংশগ্রহণ চায় প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা চায় ডাকসু নির্বাচনে অধিকসংখ্যক ও বড় ছাত্রসংগঠন অংশগ্রহণ করুক। এর মাধ্যমে নির্বাচনের পর ডাকসুকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রশাসন মনে করছে।

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রস্তাব ও মতামত সংগ্রহের পর একটি সম্মিলিত অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছাত্রসংগঠনগুলো যখন সম্মিলিতভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য প্রশাসনকে বলবে, তখন তফসিল ঘোষণার দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।

এ কারণে নির্বাচন আয়োজনের আগে আলোচনা, মতামত গ্রহণ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া চলছে।

বর্তমান নেতাদের সিনেট সদস্য থাকার সুযোগ

ডাকসুর বর্তমান নির্বাচিত নেতাদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যপদ। নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এবং তাঁদের ছাত্রত্ব বহাল থাকা সাপেক্ষে তাঁরা ডাকসু থেকে নির্বাচিত বর্তমান নেতাদের হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য থাকতে পারবেন।

তবে এটি তাঁদের ডাকসুর নিয়মিত মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার অর্থ নয়। ডাকসুর গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত সময় ও নির্বাচনের বিধানই এখানে প্রযোজ্য হবে।

৯০ দিনের সময়সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের অতিরিক্ত সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত একটি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে এই সময় কাজ করতে পারে।

তবে এই সময়কে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সীমাহীন সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। গঠনতন্ত্রে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে নির্বাচন হয়ে গেলে বর্তমান কমিটির দায়িত্ব শেষ হবে। আর নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও নির্বাচন না হলে ডাকসু বিলুপ্ত হওয়ার বিধান কার্যকর হওয়ার প্রশ্ন আসবে।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখন কী জানা যাচ্ছে?

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ডাকসুর নিয়মিত এক বছরের মেয়াদ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হয়েছে। নতুন নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত বা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

তবে এই অতিরিক্ত সময়ে তাঁদের কার্যক্রম রুটিন ও অফিসিয়াল কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হল প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

উপসংহার

ডাকসুর মেয়াদ শেষ, নির্বাচন কখন? এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো সামনে আসেনি। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বর্তমান কমিটির নিয়মিত এক বছরের মেয়াদ শেষ হলেও গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৯০ দিনের অতিরিক্ত সময়ের সুযোগ রয়েছে। তবে এই সময়ে বর্তমান নেতাদের ভূমিকা সীমিত থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না।

নতুন ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও হল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছে। ফলে এখন মূল অপেক্ষা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার। তফসিল ঘোষণা হলেই ভোটের তারিখ, মনোনয়ন, প্রচারসহ পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Mostafizur Rahman
Mostafizur Rahman

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top