Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.
শিশুদের হাম প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপসমূহ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এ রোগের বিস্তার রোধে সরকার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে এবং নিয়মিত গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং দুর্গম এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাম নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফলে শিশুমৃত্যু কমছে এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার পথ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
এই প্রবন্ধে শিশুদের হাম প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত নানামুখী উদ্যোগ ও পদক্ষেপসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
শিশুদের হাম প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপসমূহ ২০২৬
বাংলাদেশ সরকার শিশুদের অতিসংক্রামক হাম (Measles) ও রুবেলা থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) মাধ্যমে বহুমুখী ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও শিশু মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর (UNICEF, WHO, Gavi) সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
হাম প্রতিরোধে ২০২৬ সালে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) এবং এমআর (MR) টিকার সফল বাস্তবায়ন
বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) দেশের টিকাদান কাঠামোর মূল ভিত্তি। আগে শুধুমাত্র হামের একক টিকা দেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে সরকার হামের পাশাপাশি রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর (MR) কম্বাইন্ড ভ্যাকসিন প্রবর্তন করেছে।
সরকারের বর্তমান টিকাদান সূচি অনুযায়ী প্রতিটি শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুটি ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হয়:
-
প্রথম ডোজ: শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে এই ডোজটি দেওয়া হয়। এটি শিশুকে প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোগায়।
-
দ্বিতীয় ডোজ: শিশুর বয়স ১৫ মাস পূর্ণ হলে এই বুস্টার ডোজটি দেওয়া হয়। দুটি ডোজের এই চক্রটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে একটি শিশু হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে প্রায় শতভাগ (৯৭%-৯৯%) দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা লাভ করে।
সরকার নিশ্চিত করেছে যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলো থেকে যেন কোনো শিশু এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।
২. জাতীয় হাম-রুবেলা (MR) ক্যাম্পেইন পরিচালনা
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পরেও অনেক সময় দেখা যায় কিছু শিশু ভৌগোলিক বা সামাজিক কারণে টিকা নেওয়া থেকে বাদ পড়ে যায়। এই বাদ পড়া শিশুদের সুরক্ষার আওতায় আনতে এবং সমাজে সামূহিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ (Herd Immunity) গড়ে তুলতে সরকার নির্দিষ্ট সময় পরপর দেশব্যাপী বৃহৎ আকারের জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে।
-
বিশাল লক্ষ্যমাত্রা ও বয়সসীমা: সাধারণত ৯ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর বা তার কম বয়সী সকল শিশুকে এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হয়। এক একটি ক্যাম্পেইনে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি শিশুকে একযোগে টিকা দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে সরকারের।
-
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক টিকাদান: ক্যাম্পেইন চলাকালীন দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাদরাসা ও ব্র্যাক স্কুলগুলোতে বিশেষ টিকাদান বুথ স্থাপন করা হয়। ফলে স্কুলগামী শিশুদের শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
-
কমিউনিটি ও অস্থায়ী কেন্দ্র: স্কুলবহির্ভূত বা ঝরে পড়া শিশুদের জন্য পাড়া-মহল্লায়, রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের পাশে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করে টিকা দেওয়া হয়।
৩. দুর্গম, প্রান্তিক ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কৌশল
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে সব এলাকায় সমানভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ কৌশল বা “আউটরিচ সেশন” (Outreach Sessions) নীতি গ্রহণ করেছে।
-
ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা জয়: পার্বত্য চরাঞ্চল, হাওড় অঞ্চল, উপকূলীয় দ্বীপ এবং সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য বিশেষ মোবাইল মেডিকেল টিম এবং নৌ-ভ্যাকসিন সেবা চালু করা হয়েছে।
-
ভাসমান ও পথশিশু সুরক্ষা: বড় শহরগুলোর বস্তিবাসী, ভাসমান জনগোষ্ঠী, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট বা ফুটপাতে বসবাসকারী পথশিশুদের টিকাদানের জন্য বিশেষ নৈশকালীন ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়।
-
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও জরুরি পরিস্থিতি: কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) শিবিরের লাখ লাখ শিশুদের মধ্যে যেন হামের প্রাদুর্ভাব না ঘটে, সেজন্য সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার সাথে মিলে বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ (Catch-up) টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে এবং তা নিয়মিত বজায় রাখছে।
৪. তৃণমূল পর্যায়ে উঠান বৈঠক, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক সচলতা
টিকার সহজলভ্যতা থাকলেই কেবল কর্মসূচি সফল হয় না, যদি না জনগণের মাঝে সচেতনতা থাকে। অনেক সময় গ্রামীণ বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে টিকা নিয়ে নানা কুসংস্কার, ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা বা ভয় ভীতি কাজ করে। এগুলো দূর করতে সরকার সামাজিক সচলতা (Social Mobilization) বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে।
-
মাঠকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা: স্বাস্থ্য সহকারী (HA) এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী (FWA)-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের তালিকা তৈরি করেন। তারা গ্রামীণ মায়েদের নিয়ে “উঠান বৈঠক” করেন, যেখানে হামের ভয়াবহতা এবং টিকার প্রয়োজনীয়তা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলা হয়।
-
ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্তকরণ: জুমার নামাজে মসজিদের ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে, স্থানীয় মন্দিরের পুরোহিত, স্কুলের শিক্ষক এবং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার-চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ত করে টিকার পক্ষে জনমত গঠন করা হয়।
-
গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্রচারণা: বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন (BTV) এবং বেসরকারি চ্যানেলগুলোতে আকর্ষণীয় তথ্যচিত্র ও নাটিকা প্রচার করা হয়। এছাড়া বর্তমানে মায়েদের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা (SMS) পাঠিয়ে টিকার তারিখ মনে করিয়ে দেওয়ার আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
৫. কোল্ড চেইন (Cold Chain) রক্ষণাবেক্ষণ ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ
টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা (সাধারণত +২° থেকে +৮° সেলসিয়াস) নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। একে ‘কোল্ড চেইন’ বলা হয়। সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এই কোল্ড চেইন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করেছে।
-
আইস-লাইন্ড রেফ্রিজারেটর (ILR): দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জেলা হাসপাতালে বিশ্বমানের আইএলআর এবং কোল্ড রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
-
সোলার কোয়ালিফাইড কোল্ড চেইন: বিদ্যুৎবিহীন বা লোডশেডিংপ্রবণ এলাকার জন্য সরকার সৌরশক্তি চালিত রেফ্রিজারেটর স্থাপন করেছে, যাতে বিদ্যুতের অভাবে টিকার গুণগত মান নষ্ট না হয়।
-
ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার: মাঠপর্যায়ে টিকাদানের দিন বিশেষায়িত বরফ খণ্ডসহ (Ice Packs) ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার ব্যবহার করা হয়, যা মাঠপর্যায়ে টিকার কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ রাখে।
৬. নজরদারি (Surveillance) এবং ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ
হামের কোনো প্রাদুর্ভাব বা মহামারি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সরকার একটি শক্তিশালী ‘হাম-রুবেলা নজরদারি ব্যবস্থা’ (Measles-Rubella Surveillance System) গড়ে তুলেছে।
-
কেস-বেসড নজরদারি: দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে যদি কোনো শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ (যেমন: জ্বর ও গায়ে লালচে দানা বা র্যাশ) দেখা যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশ রয়েছে।
-
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা: ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (IPH)-এ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত ল্যাবরেটরিতে সন্দেহভাজন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয় যে এটি হাম নাকি অন্য কোনো রোগ। এর ফলে কোথাও কোনো ছোটখাটো প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুত সেখানে রিং-ভ্যাকসিনেশন (আশেপাশের সবাইকে দ্রুত টিকা দেওয়া) করতে পারে।
৭. আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
হাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার এককভাবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) এবং বৈশ্বিক টিকার জোট ‘গ্যাভি’ (GAVI)-র আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত নিরাপদ টিকা আমদানি ও সরবরাহ করে থাকে।
এই সমন্বিত ও দূরদর্শী উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ টিকাদানে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ (Vaccine Hero) উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন, যা সরকারের এই মহতী উদ্যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান
সরকার আপনার শিশুর সুরক্ষার জন্য কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করে বিনামূল্যে এই মূল্যবান টিকা আপনার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু সচেতন অভিভাবক হিসেবে শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আপনার। মনে রাখবেন, একটি টিকাই পারে আপনার শিশুকে পঙ্গুত্ব বা অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে।
সাধারণ জিজ্ঞাসাবলী (FAQs):
শিশুদের হাম প্রতিরোধে সরকার বর্তমানে কী ধরনের টিকা দিচ্ছে এবং তা কতবার দিতে হয়?
সরকার জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) অধীনে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধের জন্য বিনামূল্যে কম্বাইন্ড এমআর (MR) ভ্যাকসিন প্রদান করে।
প্রতিটি শিশুকে মোট দুটি ডোজ দেওয়া হয়:
- ১ম ডোজ: শিশুর ৯ মাস পূর্ণ হলে।
- ২য় ডোজ (বুস্টার): শিশুর ১৫ মাস পূর্ণ হলে।
এমআর (MR) টিকার দুটি ডোজই নেওয়া কি জরুরি?
হ্যাঁ, দুটি ডোজই নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ডোজটি প্রাথমিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে এবং দ্বিতীয় বুস্টার ডোজটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ৯৭% থেকে ৯৯% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে শিশুকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করে।
নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ছাড়াও সরকার কেন বিশেষ হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে?
ভৌগোলিক, সামাজিক বা প্রাদুর্ভাব জনিত কারণে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়ে (Zero-Dose), তাদের সুরক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিশেষ ক্যাম্পেইন আয়োজন করে। এটি সমাজে সামূহিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ (Herd Immunity) গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার শিশুরা কীভাবে এই টিকার আওতায় আসছে?
সরকার “আউটরিচ সেশন” এবং বিশেষ মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চল, হাওড়, উপকূলীয় দ্বীপ ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায়। এছাড়া চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় নৌ-ভ্যাকসিন সেবার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতের সমস্যা থাকলেও টিকার গুণগত মান কীভাবে বজায় রাখা হয়?
সরকার বিশ্বমানের আইস-লাইন্ড রেফ্রিজারেটর (ILR) এবং বিদ্যুৎহীন/লোডশেডিংপ্রবণ এলাকার জন্য সৌরশক্তি চালিত (Solar Qualified) কোল্ড চেইন ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। মাঠপর্যায়ে বিশেষায়িত আইস প্যাকসহ ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার ব্যবহার করা হয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশুদের জন্য সরকারের বিশেষ কী ব্যবস্থা রয়েছে?
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের শিশুদের প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করতে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর (UNICEF, WHO, Gavi) সহায়তায় বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ (Catch-up) টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়মিত পরিচালনা করছে।
কোনো শিশুর হামের লক্ষণ দেখা দিলে সরকার কীভাবে তা ট্র্যাকিং বা পরীক্ষা করে?
সরকারের একটি শক্তিশালী ‘কেস-বেসড নজরদারি ব্যবস্থা’ রয়েছে। সন্দেহভাজন রোগীর রক্ত পরীক্ষা ঢাকার মহাখালীর জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে (IPH) করা হয়। প্রাদুর্ভাব নিশ্চিত হলে আক্রান্ত এলাকার আশেপাশের শিশুদের দ্রুত ‘রিং-ভ্যাকসিনেশন’-এর আওতায় আনা হয়।
অভিভাবকরা কীভাবে সরকারি এই বিনামূল্যে টিকাদান সেবা পেতে পারেন?
নিকটস্থ সরকারি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের টিকাদান কেন্দ্র বা স্থানীয় অস্থায়ী টিকাদান বুথে গিয়ে অভিভাবকরা বিনামূল্যে শিশুকে টিকা খাওয়াতে পারেন।
উপসংহার
শিশুদের হাম প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কেবল একটি স্বাস্থ্য কর্মসূচি নয়, এটি একটি সুস্থ ও মেধাভিজ্ঞ জাতি গঠনের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।
নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম, বিশাল জাতীয় ক্যাম্পেইন, কোল্ড চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ আজ হাম নির্মূলের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে এবং দেশকে সম্পূর্ণ হামমুক্ত করতে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
আসুন, আমরা সকলে মিলে সরকারের এই উদ্যোগকে সফল করি এবং আমাদের প্রতিটি শিশুর জন্য একটি রোগমুক্ত, নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি।

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.
