তরুণ উদ্যোক্তারা পাবেন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা সহায়তা

Mostafizur Rahman
Mostafizur Rahman

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.

দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করেছে ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি

এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা নতুন ব্যবসা শুরু করা কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সহায়তার একটি অংশ থাকবে ব্যাংকঋণ হিসেবে এবং অন্য অংশ দেওয়া হবে এককালীন অনুদান হিসেবে।

কর্মসূচিটির বিশেষ দিক হলো, যোগ্য উদ্যোক্তাদের জন্য এই অর্থায়নে কোনো সহায়তামূলক জামানত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ঋণের অর্থ ব্যবহার এবং কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি কী?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি মূলত সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি। এর মাধ্যমে শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে তরুণদের নিজেদের ব্যবসা বা আয়মূলক কার্যক্রম গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আটটি জেলা- মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা এর মোট ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে।

অর্থাৎ শুরুতেই প্রতিটি বিভাগের একটি করে জেলার নির্বাচিত উপজেলাকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কর্মসূচির পরিধি কীভাবে বাড়বে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে?

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় একজন নির্বাচিত উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ২০ লাখ টাকা পুরোপুরি ঋণ নয়। অর্থায়নের কাঠামোতে ঋণ এবং অনুদান- দুই ধরনের সহায়তা রাখা হয়েছে।

মোট অর্থের ৫০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ৫০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এককালীন অনুদান হিসেবে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সহজভাবে বিষয়টি এমন-

  • সর্বোচ্চ মোট সহায়তা: ২০ লাখ টাকা
  • ব্যাংকঋণ: সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
  • এককালীন অনুদান: সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা
  • ঋণ ও অনুদানের অনুপাত: ৫০:৫০
  • সহায়তামূলক জামানত: প্রয়োজন নেই

তবে প্রত্যেক আবেদনকারী যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ লাখ টাকা পাবেন, বিষয়টি এমন নয়। আবেদনকারীর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, যোগ্যতা ও কর্মসূচির শর্ত পূরণের বিষয়গুলো বিবেচনা করে অর্থায়ন নির্ধারণ করা হবে।

অনুদানের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঋণ ও অনুদানের অংশের সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত রয়েছে। উদ্যোক্তাকে ব্যাংক থেকে পাওয়া অর্থ অনুমোদিত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো উদ্যোক্তা যদি ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন অথবা অনুমোদিত ব্যবসার বাইরে অর্থ ব্যবহার করেন, তাহলে অনুদানের সুবিধা বাতিল হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে অনুদানের অর্থও ঋণে পরিণত হওয়ার বিধান রয়েছে। পরবর্তীতে সেই অর্থ সরকারি পাওনা হিসেবে আদায় করা হবে। তাই শুধু অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নয়, অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং ঋণের নিয়মিত পরিশোধও কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা রাখা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হলো বয়স।

আবেদনের শেষ তারিখে আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে যে উপজেলায় কর্মসূচির আওতায় আবেদন করবেন, সেই উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

এ ছাড়া আবেদনকারীর একটি বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবসায়িক ধারণা বা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু অর্থ পাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই হবে না; কোন ধরনের ব্যবসা করবেন, কীভাবে সেটি পরিচালনা করবেন এবং কীভাবে আয় সৃষ্টি হবে—এসব বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

কারা আবেদন করতে পারবেন না?

কর্মসূচিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এর আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন- এমন ব্যক্তি এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া ঋণখেলাপি ব্যক্তিরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন না। একইভাবে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের জন্যও এই কর্মসূচির সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

আবেদনের সময় দেওয়া তথ্য সঠিক হওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবেদনকারী ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে তাঁর আবেদন বাতিল হতে পারে।

কোন ধরনের ব্যবসায় অর্থায়ন পাওয়া যাবে?

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ধরনের বৈধ ও আয় উপযোগী ব্যবসায় অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়।

সম্ভাব্য খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • কৃষিভিত্তিক শিল্প
  • খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ
  • হস্তশিল্প
  • মৎস্য
  • পশুপালন
  • পর্যটন
  • হালকা প্রকৌশল
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি

এ ছাড়া বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন ধরনের স্টার্টআপ ও ডিজিটাল উদ্যোগও এই কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে।

এর মধ্যে ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, অ্যাগ্রিটেক ও হেলথটেকসহ প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি আয় সৃষ্টি করতে পারে এমন অন্যান্য বৈধ ব্যবসায়িক উদ্যোগেও অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।

আবেদন শুরু ও শেষের তারিখ

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়া ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। আগ্রহী ও যোগ্য তরুণদের ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।

তাই আবেদন করার আগে নিজের বয়স, স্থায়ী ঠিকানা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। শেষ মুহূর্তে আবেদন করলে কাগজপত্র প্রস্তুত বা ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নিজের এলাকার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দিতে হবে।

আবেদন করার আগে ফরমে দেওয়া তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ঠিকানা, বয়স এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনার তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি।

আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে

কর্মসূচিতে আবেদন করার সময় কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

এর মধ্যে রয়েছে-

  1. পূরণ করা আবেদন ফরম
  2. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  3. ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ
  4. সাম্প্রতিক ছবি
  5. শিক্ষাগত সনদ, যদি থাকে
  6. প্রশিক্ষণ সনদ, যদি থাকে

ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত কোনো তথ্য বা কাগজপত্র প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা থেকে সে বিষয়ে জানা যেতে পারে।

ব্যবসায়িক পরিকল্পনা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই কর্মসূচিতে আবেদনকারীর ব্যবসায়িক ধারণা বা পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ অর্থায়নের উদ্দেশ্য হলো বাস্তবসম্মত ও আয় সৃষ্টি করতে সক্ষম উদ্যোগকে সহায়তা করা।

একজন তরুণ যদি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসা করতে চান, তাহলে কী পণ্য তৈরি করবেন, কোথা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করবেন, সম্ভাব্য ক্রেতা কারা এবং ব্যবসা পরিচালনায় কী ধরনের খরচ হবে- এসব বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার।

একইভাবে অনলাইন ব্যবসা বা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ক্ষেত্রেও ব্যবসার ধরন, সম্ভাব্য বাজার, পরিচালন ব্যয় এবং আয় তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উপকারী।

তরুণদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি?

তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হলো প্রাথমিক মূলধনের সংকট। অনেকের ব্যবসার ধারণা থাকলেও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণের পাশাপাশি অনুদানের সুযোগ থাকায় যোগ্য তরুণদের জন্য ব্যবসা শুরু করার একটি আর্থিক ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ের তরুণদের স্থানীয় সম্পদ, কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হস্তশিল্প বা প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে একজন উদ্যোক্তার নিজের আয়ের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

আবেদন করার আগে যা মনে রাখবেন

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। প্রথমত, আবেদনকারী নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে আছেন কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শর্ত পূরণ করতে হবে।

এর পাশাপাশি আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে কি না, ঋণখেলাপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এবং চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েন কি না- এসব বিষয়ও যাচাই করা দরকার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আবেদনপত্রে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য না দেওয়া। ব্যবসার জন্য পাওয়া অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে হবে।

শেষ কথা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে তরুণ উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এককালীন অনুদান হিসেবে দেওয়ার কাঠামো রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সহায়তামূলক জামানত ছাড়াই অর্থায়নের সুযোগ কর্মসূচিটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

তবে ২০ লাখ টাকা পাওয়া নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং তাঁর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচিত হবে।

তাই আগ্রহী তরুণদের আবেদন করার আগে সব শর্ত ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Mostafizur Rahman
Mostafizur Rahman

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and the founder of Porikrama, specializing in education and competitive exam preparation, government citizen services, travel, agriculture, and health topics. He researches each article using reliable sources before publishing, focusing on accuracy and clarity. With a background in writing reader-focused, practical content, he aims to make everyday information genuinely useful for Bangladeshi readers.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top