Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and founder of Porikrama. He writes practical, reader-focused content on education, jobs, citizen services, travel, agriculture, technology and general lifestyle information. He focuses on accuracy, clarity, and creating useful content for Bangladeshi readers.
বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানা থাকলে দেশজুড়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে বান্দরবানের পাহাড়, সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান কিংবা রাজশাহীর ঐতিহাসিক স্থাপনা- প্রতিটি অঞ্চলই ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, নদী, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও গ্রামীণ জীবনের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। দেশের প্রতিটি জেলারই রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থান।
এই লেখায় বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান জেলা অনুযায়ী তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটন ও ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান
ঢাকা বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ১ | ঢাকা | লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় জাদুঘর |
| ২ | গাজীপুর | ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক |
| ৩ | নারায়ণগঞ্জ | পানাম নগর, সোনাকান্দা দুর্গ, লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর |
| ৪ | নরসিংদী | উয়ারী-বটেশ্বর, বালাপুর জমিদার বাড়ি, ড্রিম হলিডে পার্ক |
| ৫ | মুন্সিগঞ্জ | ইদ্রাকপুর দুর্গ, অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান, মেঘনা নদীর চর |
| ৬ | মানিকগঞ্জ | বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, তেওতা জমিদার বাড়ি, আরিচা ঘাট |
| ৭ | টাঙ্গাইল | মহেড়া জমিদার বাড়ি, আতিয়া মসজিদ, মধুপুর গড় |
| ৮ | কিশোরগঞ্জ | নিকলী হাওর, শোলাকিয়া ঈদগাহ, ইটনা-মিঠামইন হাওর |
| ৯ | ফরিদপুর | মধু পাগলের আখড়া, জমিদার বাড়ি, পদ্মা নদীর পাড় |
| ১০ | গোপালগঞ্জ | টুঙ্গিপাড়া, বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ, উলপুর জমিদার বাড়ি |
| ১১ | মাদারীপুর | শকুনি লেক, মাদারীপুর রাজরাজেশ্বরী মন্দির, আউলিয়াপুর নীলকুঠি |
| ১২ | শরীয়তপুর | সুরেশ্বর দরবার শরীফ, পদ্মা নদীর পাড়, কীর্তিনাশা নদী |
| ১৩ | রাজবাড়ী | গোয়ালন্দ ঘাট, মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা, পদ্মার চর |
চট্টগ্রাম বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ১৪ | চট্টগ্রাম | পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়েজ লেক, চট্টগ্রাম ওয়ার সেমেট্রি |
| ১৫ | কক্সবাজার | কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, ইনানী, হিমছড়ি, মহেশখালী |
| ১৬ | বান্দরবান | নীলগিরি, নীলাচল, বগালেক, স্বর্ণমন্দির |
| ১৭ | রাঙামাটি | কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, সাজেক |
| ১৮ | খাগড়াছড়ি | আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, দীঘিনালা, মায়াবিনী লেক |
| ১৯ | কুমিল্লা | ময়নামতি, শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর |
| ২০ | ফেনী | রাজাঝির দীঘি, মুহুরী নদী, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা |
| ২১ | নোয়াখালী | নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, উপকূলীয় চরাঞ্চল |
| ২২ | লক্ষ্মীপুর | মেঘনা নদীর তীর, রায়পুরের ঐতিহাসিক স্থান, উপকূলীয় এলাকা |
| ২৩ | চাঁদপুর | বড় স্টেশন মোলহেড, পদ্মা-মেঘনার মিলনস্থল, নদীর পাড় |
| ২৪ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | হারিপুর বড়বাড়ি, তিতাস নদী, ঐতিহাসিক মসজিদ-মন্দির |
সিলেট বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ২৫ | সিলেট | জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, শাহজালাল দরগাহ |
| ২৬ | মৌলভীবাজার | শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, লাউয়াছড়া, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত |
| ২৭ | হবিগঞ্জ | সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা, বিথঙ্গল আখড়া |
| ২৮ | সুনামগঞ্জ | টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, বারেকের টিলা, শিমুল বাগান |
রাজশাহী বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ২৯ | রাজশাহী | পদ্মার পাড়, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স |
| ৩০ | নাটোর | উত্তরা গণভবন, রানী ভবানীর রাজবাড়ি, চলনবিল |
| ৩১ | নওগাঁ | পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, কুসুম্বা মসজিদ, আলতাদীঘি |
| ৩২ | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ছোট সোনা মসজিদ, তাহখানা, কানসাট আমবাজার |
| ৩৩ | পাবনা | হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, পাকশী, সুচিত্রা সেনের বাড়ি |
| ৩৪ | বগুড়া | মহাস্থানগড়, গোবিন্দ ভিটা, ভাসু বিহার |
| ৩৫ | সিরাজগঞ্জ | রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি, নবরত্ন মন্দির, যমুনা নদী |
| ৩৬ | জয়পুরহাট | বারশিবালয়, নান্দাইল দিঘি, হিন্দা-কসবা শাহী মসজিদ |
খুলনা বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ৩৭ | খুলনা | সুন্দরবন, রূপসা নদী, নদীবেষ্টিত প্রাকৃতিক এলাকা |
| ৩৮ | সাতক্ষীরা | সুন্দরবন, মান্দারবাড়িয়া সৈকত, যশোরেশ্বরী কালীমন্দির |
| ৩৯ | বাগেরহাট | ষাট গম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজার, নয় গম্বুজ মসজিদ |
| ৪০ | যশোর | মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি, সাগরদাঁড়ি, চাঁচড়া শিবমন্দির |
| ৪১ | ঝিনাইদহ | শৈলকুপা, নলডাঙ্গা মন্দির, পাগলা কানাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থান |
| ৪২ | কুষ্টিয়া | লালন শাহের মাজার, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থান |
| ৪৩ | চুয়াডাঙ্গা | কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠি, মাথাভাঙ্গা নদী, দত্তনগর কৃষি খামার |
| ৪৪ | মেহেরপুর | মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, আমঝুপি নীলকুঠি, মুজিবনগর কমপ্লেক্স |
| ৪৫ | মাগুরা | শ্রীপুরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির ও দিঘি |
| ৪৬ | নড়াইল | চিত্রা নদী, সুলতান কমপ্লেক্স, জমিদারবাড়ি |
বরিশাল বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ৪৭ | বরিশাল | দুর্গাসাগর, অক্সফোর্ড মিশন চার্চ, কীর্তনখোলা নদী |
| ৪৮ | ভোলা | মনপুরা, চর কুকরি-মুকরি, মেঘনা নদী |
| ৪৯ | পটুয়াখালী | কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, ফাতরার বন, গঙ্গামতি |
| ৫০ | ঝালকাঠি | ভিমরুলি ভাসমান পেয়ারা বাজার, কীর্তিপাশা জমিদার বাড়ি |
| ৫১ | পিরোজপুর | স্বরূপকাঠির পেয়ারা বাগান, মঠবাড়িয়া, রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি |
| ৫২ | বরগুনা | ফাতরার বন, পায়রা নদীর তীর, উপকূলীয় চরাঞ্চল |
রংপুর বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ৫৩ | রংপুর | তাজহাট জমিদার বাড়ি, কারমাইকেল কলেজ, চিকলী বিল |
| ৫৪ | দিনাজপুর | কান্তজিউ মন্দির, রামসাগর, নয়াবাদ মসজিদ |
| ৫৫ | ঠাকুরগাঁও | হরিপুর রাজবাড়ি, বালিয়াডাঙ্গী সূর্যপুরী আমগাছ, টাঙ্গন নদী |
| ৫৬ | পঞ্চগড় | বাংলাবান্ধা, তেঁতুলিয়া, ভজনপুরের পাথর এলাকা |
| ৫৭ | নীলফামারী | নীলসাগর, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, চিনি মসজিদ |
| ৫৮ | লালমনিরহাট | তিস্তা ব্যারেজ, তিন বিঘা করিডোর, বুড়িমারী |
| ৫৯ | কুড়িগ্রাম | ধরলা নদী, চিলমারী বন্দর, ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকা |
| ৬০ | গাইবান্ধা | বালাসী ঘাট, ভরতখালী মন্দির, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চর |
ময়মনসিংহ বিভাগ
| নং | জেলা | উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান |
|---|---|---|
| ৬১ | ময়মনসিংহ | বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তাগাছা রাজবাড়ি, জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা |
| ৬২ | জামালপুর | লাউচাপড়া, গান্ধী আশ্রম, নান্দিনা মসজিদ |
| ৬৩ | শেরপুর | গজনী অবকাশ কেন্দ্র, মধুটিলা ইকোপার্ক, নালিতাবাড়ী পাহাড় |
| ৬৪ | নেত্রকোনা | বিরিশিরি, সোমেশ্বরী নদী, দুর্গাপুরের চীনামাটির পাহাড় |
নোট: বাংলাদেশের ৬৪ জেলার তালিকা জেলা প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণের আগে স্থানীয় পরিস্থিতি, যাতায়াত ব্যবস্থা ও দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম যাচাই করা ভালো।
বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান: জেলা ভিত্তিক বিস্তারিত
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
নিচে জেলা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. ঢাকা জেলার দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ইতিহাস ও আধুনিকতার অসাধারণ সমন্বয়। পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, ঢাকেশ্বরী মন্দির এবং জাতীয় জাদুঘর অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও হাতিরঝিলও দর্শনার্থীদের কাছে জনপ্রিয়।
২. গাজীপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য গাজীপুর বেশ জনপ্রিয়। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক এখানকার প্রধান আকর্ষণ। রাজেন্দ্রপুরের বনাঞ্চল ও বিভিন্ন রিসোর্টও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
৩. নারায়ণগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক আকর্ষণ পানাম নগর। প্রাচীন ভবন ও স্থাপত্যের জন্য সোনারগাঁ বিশেষভাবে পরিচিত। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর এবং সোনাকান্দা দুর্গও উল্লেখযোগ্য।
৪. নরসিংদী জেলার দর্শনীয় স্থান
নরসিংদীর প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব অনেক। উয়ারী-বটেশ্বর প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এছাড়া বালাপুর জমিদার বাড়ি এবং বিভিন্ন গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।
৫. মুন্সিগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
মুন্সিগঞ্জের ইতিহাসের সঙ্গে বিক্রমপুরের ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িত। ইদ্রাকপুর দুর্গ এখানকার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। এছাড়া অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান ও পদ্মা-মেঘনার নদীঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।
৬. মানিকগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
মানিকগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণ বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। এর বিশাল প্রাসাদ ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এছাড়া তেওতা জমিদার বাড়ি এবং আরিচা ঘাটও পরিচিত স্থান।
৭. টাঙ্গাইল জেলার দর্শনীয় স্থান
টাঙ্গাইলের মহেড়া জমিদার বাড়ি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থান। ঐতিহাসিক আতিয়া মসজিদ, মধুপুর গড় ও শালবনও ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয়।
৮. কিশোরগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ বর্ষাকালে অন্যরকম সৌন্দর্য ধারণ করে। নিকলী হাওর ও ইটনা-মিঠামইনের বিস্তৃত জলরাশি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। এছাড়া শোলাকিয়া ঈদগাহ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৯. ফরিদপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে নদী, পুরোনো জমিদারবাড়ি ও ধর্মীয় স্থাপনার দেখা মেলে। ফরিদপুর রাজবাড়ি, পদ্মা নদীর পাড় ও কবি জসীমউদদীনের বাড়ি এ জেলার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ।
১০. গোপালগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ অবস্থিত। উলপুর জমিদার বাড়িসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানও দেখা যায়।
১১. মাদারীপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
মাদারীপুর শহরের শকুনি লেক একটি পরিচিত বিনোদনকেন্দ্র। এছাড়া আউলিয়াপুর নীলকুঠি ও বিভিন্ন পুরোনো ধর্মীয় স্থাপনা জেলার ইতিহাসকে তুলে ধরে।
১২. শরীয়তপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীবেষ্টিত শরীয়তপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশেষ আকর্ষণীয়। সুরেশ্বর দরবার শরীফ এবং নদীর চরাঞ্চল উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।
১৩. রাজবাড়ী জেলার দর্শনীয় স্থান
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট দীর্ঘদিন ধরে নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের জন্য পরিচিত। পদ্মার বিস্তৃত চর এবং মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত স্থানও দর্শনীয়।
১৪. চট্টগ্রাম জেলার দর্শনীয় স্থান
চট্টগ্রাম পাহাড়, সমুদ্র ও ঐতিহাসিক স্থাপনার মিলনস্থল। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, ফয়েজ লেক, চট্টগ্রাম ওয়ার সেমেট্রি এবং বাটালি হিল এখানকার জনপ্রিয় স্থান।
১৫. কক্সবাজার জেলার দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। এছাড়া হিমছড়ি, ইনানী সমুদ্রসৈকত, মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।
১৬. বান্দরবান জেলার দর্শনীয় স্থান
পাহাড়ি সৌন্দর্যের জন্য বান্দরবান দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা। নীলগিরি, নীলাচল, বগালেক, স্বর্ণমন্দির, চিম্বুক পাহাড় ও মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র উল্লেখযোগ্য।
১৭. রাঙামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান
রাঙামাটির প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদ। নৌভ্রমণের পাশাপাশি ঝুলন্ত সেতু, শুভলং ঝরনা, রাজবন বিহার ও পাহাড়ি জনপদ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।
১৮. খাগড়াছড়ি জেলার দর্শনীয় স্থান
খাগড়াছড়ির পাহাড়ি প্রকৃতি অত্যন্ত মনোরম। আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, দীঘিনালা ও বিভিন্ন পাহাড়ি ঝরনা এ জেলার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।
১৯. কুমিল্লা জেলার দর্শনীয় স্থান
কুমিল্লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর একটি ময়নামতি। শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর ও ধর্মসাগর ইতিহাসপ্রেমীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
২০. ফেনী জেলার দর্শনীয় স্থান
ফেনীর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে রাজাঝির দীঘি ও বিভিন্ন পুরোনো জমিদারবাড়ি উল্লেখযোগ্য। মুহুরী নদী ও মুহুরী প্রজেক্টের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশও উপভোগ করা যায়।
২১. নোয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থান
নোয়াখালীর উপকূলীয় চরাঞ্চল ও নদীঘেরা প্রকৃতি বেশ আকর্ষণীয়। নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও হরিণ দেখা যায়।
২২. লক্ষ্মীপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
লক্ষ্মীপুরের নদী ও উপকূলীয় পরিবেশ জেলার অন্যতম আকর্ষণ। মেঘনা নদীর তীর, রায়পুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান এবং গ্রামীণ প্রকৃতি ভ্রমণের জন্য উপযোগী।
২৩. চাঁদপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
চাঁদপুর মেঘনা, পদ্মা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। বড় স্টেশন মোলহেড, নদীর পাড় এবং ইলিশকেন্দ্রিক নদীভ্রমণ এ জেলার অন্যতম আকর্ষণ।
২৪. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দর্শনীয় স্থান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বেশ সমৃদ্ধ। হারিপুর বড়বাড়ি, আখাউড়া ও বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদ-মন্দির জেলার উল্লেখযোগ্য স্থান। তিতাস নদীও জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ।
২৫. সিলেট জেলার দর্শনীয় স্থান
সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক জাফলং। এছাড়া রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, বিছনাকান্দি, লাক্কাতুরা চা-বাগান এবং শাহজালাল (র.)-এর মাজার উল্লেখযোগ্য।
২৬. মৌলভীবাজার জেলার দর্শনীয় স্থান
চা-বাগানের জন্য মৌলভীবাজার বিশেষভাবে পরিচিত। শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এবং হামহাম ঝরনা প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।
২৭. হবিগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
হবিগঞ্জের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক স্থানগুলোর মধ্যে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অন্যতম। এছাড়া বিথঙ্গল আখড়াও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
২৮. সুনামগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
সুনামগঞ্জ হাওর ও নদীর জেলা হিসেবে পরিচিত। টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, বারেকের টিলা এবং শিমুল বাগান পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।
২৯. রাজশাহী জেলার দর্শনীয় স্থান
রাজশাহী শহরের পদ্মার পাড়, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, পুঠিয়া মন্দির কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা উল্লেখযোগ্য। পদ্মার পাড়ে সূর্যাস্ত উপভোগ করাও জনপ্রিয়।
৩০. নাটোর জেলার দর্শনীয় স্থান
নাটোরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ উত্তরা গণভবন। এছাড়া রানী ভবানীর রাজবাড়ি এবং বিস্তৃত চলনবিল জেলার গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।
৩১. নওগাঁ জেলার দর্শনীয় স্থান
নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কুসুম্বা মসজিদ ও আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানও উল্লেখযোগ্য।
৩২. চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
আমের জন্য বিখ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন। ছোট সোনা মসজিদ, তাহখানা ও বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপনা দর্শনীয়। আমের মৌসুমে কানসাট এলাকাও বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।
৩৩. পাবনা জেলার দর্শনীয় স্থান
পাবনার পাকশী অঞ্চলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। এছাড়া সুচিত্রা সেনের বাড়ি, পাকশীর নদীঘেরা পরিবেশ ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান উল্লেখযোগ্য।
৩৪. বগুড়া জেলার দর্শনীয় স্থান
বগুড়ার প্রধান ঐতিহাসিক আকর্ষণ মহাস্থানগড়। এটি প্রাচীন বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। গোবিন্দ ভিটা ও ভাসু বিহারও দর্শনীয়।
৩৫. সিরাজগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থান
সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। এছাড়া নবরত্ন মন্দির এবং যমুনা নদীর বিস্তৃত দৃশ্য ভ্রমণকারীদের ভালো লাগে।
৩৬. জয়পুরহাট জেলার দর্শনীয় স্থান
জয়পুরহাটে বিভিন্ন প্রাচীন মসজিদ, মন্দির ও দিঘি রয়েছে। বারশিবালয়, নান্দাইল দিঘি এবং হিন্দা-কসবা শাহী মসজিদ উল্লেখযোগ্য।
৩৭. খুলনা জেলার দর্শনীয় স্থান
খুলনা সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারগুলোর অন্যতম। সুন্দরবন, রূপসা নদী এবং বিভিন্ন নদীবেষ্টিত অঞ্চল এখানকার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ।
৩৮. সাতক্ষীরা জেলার দর্শনীয় স্থান
সাতক্ষীরার বড় অংশ সুন্দরবনঘেঁষা। সুন্দরবন, মান্দারবাড়িয়া সৈকত এবং যশোরেশ্বরী কালীমন্দির জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান।
৩৯. বাগেরহাট জেলার দর্শনীয় স্থান
বাগেরহাট বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক জেলা। ষাট গম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজার ও নয় গম্বুজ মসজিদ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
৪০. যশোর জেলার দর্শনীয় স্থান
যশোরের সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। কবির বাড়ি ও কপোতাক্ষ নদীর পাড় সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
৪১. ঝিনাইদহ জেলার দর্শনীয় স্থান
ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো মন্দির, জমিদারবাড়ি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। শৈলকুপা ও নলডাঙ্গা অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো উল্লেখযোগ্য।
৪২. কুষ্টিয়া জেলার দর্শনীয় স্থান
কুষ্টিয়া বাংলা সাহিত্য ও বাউল সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। লালন শাহের মাজার, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি এবং রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
৪৩. চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনীয় স্থান
চুয়াডাঙ্গায় কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠি, মাথাভাঙ্গা নদী এবং দত্তনগর কৃষি খামার উল্লেখযোগ্য। জেলার গ্রামীণ পরিবেশও বেশ মনোরম।
৪৪. মেহেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
মেহেরপুর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও কমপ্লেক্স এখানকার প্রধান আকর্ষণ। আমঝুপি নীলকুঠিও উল্লেখযোগ্য।
৪৫. মাগুরা জেলার দর্শনীয় স্থান
মাগুরা জেলা ইতিহাস, সাহিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য পরিচিত। শ্রীপুরের শ্রীপুর জমিদার বাড়ি এবং ওয়ালী খানের ঐতিহাসিক মসজিদ এখানকার প্রাচীন স্থাপত্যের সাক্ষী।
শালিখা উপজেলার তালখড়ি গ্রামে কবি কাজী কাদের নওয়াজের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। এছাড়া মাগুরা সদরের চণ্ডীদাসপুর পার্ক এবং নবগঙ্গা ও কুমার নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের মন কাড়ে।
৪৬. নড়াইল জেলার দর্শনীয় স্থান
চিত্রা নদীর তীরে গড়ে ওঠা নড়াইল জেলা প্রাকৃতিক রূপ ও চিত্রশিল্পের মেলবন্ধনে সমৃদ্ধ। বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের স্মৃতি রক্ষার্থে তৈরি ‘এস এম সুলতান কমপ্লেক্স’ ও শিশুস্বর্গ এখানকার প্রধান বিনোদন কেন্দ্র।
রূপগঞ্জের জমিদার বাড়ি এবং শেখ রাসেল সেতুতে দাঁড়িয়ে চিত্রা নদীর সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা বেশ মনোরম। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হাটবাড়িয়া প্রাক-ঐতিহাসিক প্রত্নস্থল এবং নিরঞ্জন চ্যাটার্জির জমিদার বাড়িও ভ্রমণ করার মতো দারুণ জায়গা।
৪৭. বরিশাল জেলার দর্শনীয় স্থান
নদী ও খালের সৌন্দর্যের জন্য বরিশাল বিশেষভাবে পরিচিত। দুর্গাসাগর দিঘি, ঐতিহাসিক অক্সফোর্ড মিশন চার্চ এবং কীর্তনখোলা নদী এখানকার প্রধান দর্শনীয় স্থান।
৪৮. ভোলা জেলার দর্শনীয় স্থান
ভোলা দ্বীপ ও নদীকেন্দ্রিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ। মনপুরা দ্বীপ, চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সৈকত এবং মেঘনা নদীর তীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।
৪৯. পটুয়াখালী জেলার দর্শনীয় স্থান
পটুয়াখালীর প্রধান পর্যটন আকর্ষণ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগের জন্য কুয়াকাটা বিশেষ জনপ্রিয়। এছাড়া ফাতরার বন ও গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনও দর্শনীয়।
৫০. ঝালকাঠি জেলার দর্শনীয় স্থান
ঝালকাঠির ভিমরুলি ভাসমান পেয়ারা বাজার দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমী পর্যটন আকর্ষণ। বর্ষাকালে নৌকায় করে বাজার ও পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখার দারুণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। কীর্তিপাশা জমিদার বাড়িও এখানে উল্লেখযোগ্য।
৫১. পিরোজপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি অঞ্চল পেয়ারা চাষ ও নৌপথের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য পরিচিত। পেয়ারা বাগান, খাল ও নদীঘেরা পরিবেশ ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। এছাড়া রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৫২. বরগুনা জেলার দর্শনীয় স্থান
উপকূলীয় জেলা বরগুনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুবিশাল সমুদ্রসৈকতের জন্য বিখ্যাত। তালতলী উপজেলার শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ, যেখানে নদী ও সাগরের অপূর্ব মিলন ঘটেছে।
এখানকার টেংরাগীরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (ফাতরার বন) ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্য দেখতে পর্যটকদের দারুণ অভিজ্ঞতা দেয়। এছাড়া হরিণঘাটা লালদিয়া বন, পায়রা ও বিষখালী নদীর চরাঞ্চল এবং তালতলীর রাখাইন পল্লী এখানকার বৈচিত্র্যময় রূপ ফুটিয়ে তোলে।
৫৩. রংপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজ, চিকলী বিল ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা জেলার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।
৫৪. দিনাজপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির এর চমৎকার টেরাকোটা অলংকরণের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এছাড়া রামসাগর দিঘি, রাজবাড়ি ও নয়াবাদ মসজিদ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থান।
৫৫. ঠাকুরগাঁও জেলার দর্শনীয় স্থান
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর রাজবাড়ি ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। বালিয়াডাঙ্গীর শতবর্ষী সূর্যপুরী আমগাছ এবং টাঙ্গন নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশও ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।
৫৬. পঞ্চগড় জেলার দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়। বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এবং সীমান্তঘেঁষা সমতল ভূমির চা-বাগান এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। শীতকালে এখান থেকে দূরের হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
৫৭. নীলফামারী জেলার দর্শনীয় স্থান
নীলফামারীর নীলসাগর একটি অত্যন্ত পরিচিত বিনোদন ও দীঘিকেন্দ্রিক দর্শনীয় স্থান। এছাড়া বিশাল সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও স্থাপত্যশৈলীর চিনি মসজিদও উল্লেখযোগ্য।
৫৮. লালমনিরহাট জেলার দর্শনীয় স্থান
লালমনিরহাটে তিস্তা ব্যারেজ অন্যতম পরিচিত পর্যটনস্থান। এছাড়া ঐতিহাসিক তিন বিঘা করিডোর ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের আশপাশের এলাকা ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয়।
৫৯. কুড়িগ্রাম জেলার দর্শনীয় স্থান
কুড়িগ্রাম নদী ও বিস্তৃত চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। ধরলা সেতু, ঐতিহাসিক চিলমারী বন্দর এবং ফুলবাড়ী সীমান্ত এলাকা এ জেলার উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ।
৬০. গাইবান্ধা জেলার দর্শনীয় স্থান
গাইবান্ধার নদী ও চরাঞ্চল বিশেষভাবে সুন্দর। নদীর তীরের বালাসী ঘাট, ভরতখালী মন্দির এবং তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের বিস্তৃত চর ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে।
৬১. ময়মনসিংহ জেলার দর্শনীয় স্থান
ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা এবং মুক্তাগাছা রাজবাড়ি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ও শহরের জনপ্রিয় স্থান।
৬২. জামালপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
জামালপুরের পাহাড়ঘেরা লাউচাপড়া স্থানটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত পরিচিত। এছাড়া গান্ধী আশ্রম ও নান্দিনা মসজিদ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৬৩. শেরপুর জেলার দর্শনীয় স্থান
শেরপুরের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে গজনী অবকাশ কেন্দ্র ও মধুটিলা ইকোপার্ক উল্লেখযোগ্য। পাহাড়, বন ও ঝরনাঘেরা পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।
৬৪. নেত্রকোনা জেলার দর্শনীয় স্থান
নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও বিরিশিরি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। নীল জলের সোমেশ্বরী নদী এবং দুর্গাপুরের চীনামাটির পাহাড় পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা উচিত। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকলে ভ্রমণ যেমন আনন্দদায়ক হয়, তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যাও এড়ানো যায়।
- ভ্রমণের স্থান ও রুট সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিন: কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন- এসব আগে ঠিক করে নিন।
- আবহাওয়া দেখে ভ্রমণের সময় নির্বাচন করুন: পাহাড়, সমুদ্র, হাওর বা বনভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন: বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা স্থানীয় পরিবহনের সময়সূচি আগে জেনে নিলে ভোগান্তি কমে।
- প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখুন: মোবাইল, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি, ছাতা ও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো।
- বাজেট নির্ধারণ করুন: যাতায়াত, খাবার, থাকা ও প্রবেশমূল্যসহ সম্ভাব্য খরচের একটি হিসাব আগে করে নিন।
- স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন: প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, বনাঞ্চল, পাহাড় ও ধর্মীয় স্থানে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
- পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন: যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক, বোতল বা খাবারের প্যাকেট না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।
- নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন: অপরিচিত বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একা না যাওয়া এবং রাতে নির্জন স্থানে চলাচল এড়িয়ে চলা ভালো।
- প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করবেন না: বনাঞ্চল বা সংরক্ষিত এলাকায় গাছপালা ও বন্যপ্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
- স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখান: স্থানীয় মানুষের রীতি-নীতি, ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন।
শেষ কথা
বাংলাদেশের ৬৪ জেলার দর্শনীয় স্থান একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, ছোট আয়তনের এই দেশটি প্রকৃতি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির দিক থেকে কতটা বৈচিত্র্যময়।
কোথাও সমুদ্রের বিশালতা, কোথাও পাহাড়ের সবুজ, কোথাও হাওরের জলরাশি, আবার কোথাও শত শত বছরের পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন- প্রতিটি জেলার রয়েছে নিজস্ব আকর্ষণ।
দেশের পর্যটনস্থলগুলো ঘুরে দেখার মাধ্যমে শুধু বিনোদনই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়া যায়। তাই সুযোগ অনুযায়ী একেকটি জেলা বেছে নিয়ে ধীরে ধীরে পুরো বাংলাদেশ ভ্রমণ করা হতে পারে দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।

Mostafizur Rahman is a Bangladesh-based content writer and founder of Porikrama. He writes practical, reader-focused content on education, jobs, citizen services, travel, agriculture, technology and general lifestyle information. He focuses on accuracy, clarity, and creating useful content for Bangladeshi readers.
- Latest Posts by Mostafizur Rahman
-
টেলিটক সিমের দাম: বর্ণমালা, জেন-জি, অপরাজিতা, আগামী ও অন্যান্য
- -
১৯তম NTRCA পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি কৌশল
- -
মুরগির ডিমের উপকারিতা: দেশি, ব্রয়লার
- All Posts
