প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বই রিভিউ

*বই: প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ

*লেখক: আরিফ আজাদ

*ধরণ: ইসলামিক আদর্শ ও মতবাদ

*ভাষা: বাংলা

*প্রকাশনী: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন

*প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৭

*প্রচ্ছদ: কাজী যুবাইর মাহমুদ

*মোট পৃষ্ঠা: ১৬৭

*মূল্য: ৩০০.০০ ৳

 

মাত্র বছর তিনেক আগের কথা। একজন লেখকের জন্ম হলো। নাম আরিফ আজাদ। লিখেন বিশ্বাসের কথা। অনেকাংশেই চূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছেন অবিশ্বাসের আয়না। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের লড়াই চলছে সেই সভ্যতার আদি থেকেই। মিথ্যা বনাম সত্যের লড়াই চলছে যুগ যুগ ধরে। কখনোনো জিত হয়েছে সত্যের কখোনো আবার মিথ্যার। তবে প্রশ্ন আসতেই পারে, মিথ্যা কি সত্যিই জিততে পারে…? উত্তর দিবো, হ্যাঁ। মিথ্যা জিততে পারে। তবে খুব সাময়িক সময়ের জন্য। সভ্যতা সাক্ষী রয়েছে; হেসে গড়িয়ে পড়েছে যুগ যুগ ধরে মিথ্যার পরাজয় দেখে! কথিত সেক্যুলারদের আধিপত্যে থাকা এই সমাজের লক্ষ্য হলো এখন ধর্ম শব্দটা অভিধান থেকে মুছে দেওয়া। সম্ভবত সেই কারণেই তৈরি হচ্ছে বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়, সংগঠন। তেমনি ধর্মহীন একটি সম্প্রদায় রয়েছে এই সমাজে।

যারা নিজেদের দাবি করে নাস্তিক হিশেবে। বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে নাস্তিকার অতল গহ্বরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তারা মুসলিম যুব সম্প্রদায়কে। আর আমরাও একটু-আধটু পড়ালেখা করে ভাবতে শুরু করি, অনেক কিছুই জেনে গিয়েছি! ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু প্রশ্ন পেয়েই ভাবতে থাকি ধর্ম ভুল। এমনকি সেটা সত্য ধর্ম হলেও। আমরা একবারও সেই প্রশ্নগুলোকে বিশ্বাসের কষ্টিপাথরে যাচাই করার প্রয়োজন দেখি না। চিন্তা করি না, প্রশ্নগুলো যৌক্তিক না কি অযৌক্তিক। অথচ, আমাদের শিক্ষিত যুবারা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারে বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে নাস্তিকদের অবৈজ্ঞানিক নাস্তিকতা চর্চাকে। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে নিজেকে চেনাটাই এখন দায়। থাক তো ধর্মের উপর থাকা! মাঝমাঝে আমরা এমন কথাও শুনি যে, আসলেই কি ‘আমি’ বলতে কিছু আছে? না কি এটি একটি মায়া..? এই যুগে ধর্ম নিয়ে হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খায় আমাদের মনের মাঝে। আমরা নিরন্তর ছুটে চলি সেই প্রশ্নগুলোর দিকে।

তেমনি কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আমাদের সামনে এসেছিলেন আরিফ আজাদ। তার “প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ” নিয়ে। বইটিত লেখক সাবলীলভাবে যুক্তি দিয়ে উত্তর দিয়েছেন নাস্তিকদের প্রশ্নগুলোর। সম্ভবত নাস্তিকদের প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম বই এটি। যা পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। লেখকের সার্থকতা হলো লেখক গল্পে গল্পে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তার বইয়ে। সাজিদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি তুলে এনেছেন বিশ্বাসী এক মুসলিম কে। যে ক্রমাগত নাস্তিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গিয়েছেন। হুমায়ুনআহমেদের বই পড়ে ছেলেরা রুপার হিমু হতে চায়! আমার বিশ্বাস আরিফের বই পড়ে ছেলেরা একসময় আল্লাহর পথে সাজিদ হতে চাইবে। একটি ঘোরলাগা বিশ্বাসের বই প্যারাডক্সিকাল সাজিদ।

তবে লেখক কতটুকু মৌলিক লেখক হতে পেরেছেন তার বিচার অন্য পাঠকদের হাতে। কেননা, প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের বিভিন্ন পাঠের মধ্যে দেখা যায় লেখক অনেক তথ্যই কারচুপি করেছেন! কারচুপি বলতে অনেক তথ্যই তিনি কপি বা নকল করেছেন। বইটির “স্রষ্টা কেনো মন্দ কাজের দায় নেন না”, “কুরআন কি সূর্যের পানিতে ডুবে যাওয়ার কথা বলে”, “রিলেটিভিটির গল্প” ইত্যাদি পাঠের তথ্যগুলো/যুক্তিগুলো তিনি নকল করেছেন।

এসব তথ্য নেওয়া হয়েছে ইসলামিক স্কলার ও পিস স্পিকার ডা. জাকির নায়েকের বিভিন্ন বক্তৃতা থেকে। যাইহোক, তবুও লেখক তার সর্বোচ্চ দিয়েছেন লেখাটিতে। যা বইটি পড়লেই বুঝা যায়। আধুনিকতার এই যুগে প্রত্যেক মুসলিম ছেলে-মেয়েদের নিজেদের ধর্ম নিয়ে অনেক বেশি পড়া উচিত। আর তেমন পড়াতে প্রবেশ করার পথে অবশ্যই এই বইটি পড়া উচিত বলে মনে করি। ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!

 

আরও পড়ুন- বিষাদ সিন্ধু বই রিভিউ

ফলো করুন- পরিক্রমা