আঙুলের ছাপ শনাক্তের ইতিহাস

আঙুলের ছাপ শনাক্তের ইতিহাস

আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট (Fingerprint) সাম্প্রতিক সময়ে একটি খু্বই জনপ্রিয় শব্দবন্ধ। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে। ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে কারো সাথেই অন্য কারো আঙুলের ছাপ মিলবে না। প্রতিটি মানুষের আঙুলের ছাপই স্বতন্ত্র। মানুষের আঙুলের ছাপকে জন্মগত পরিচয়পত্রও বলা চলে। আঠারোশ শতকের মাঝামাঝি সময় (প্রায় দেড়শ বছর আগে) থেকেই বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের আঙুলের ছাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিকতার উৎকর্ষতার এই সময়ে এসে নানান ইলেকট্রনিক ডিভাইস, অপরাধী সনাক্ত, ভোট প্রদান করা, ব্যাংকিং, সিম উত্তোলন, অফিসে আসা যাওয়ার সময় প্রমাণ করা ইত্যাদি কাজে আঙুলের ছাপ ব্যবহৃত হচ্ছে।

মানুষের আঙুলের মাঝে সুক্ষ রেখা বা কোষ বিভাজনকারী অসংখ্য দাগ দেখা যায়- ওগুলোই মূলত আঙুলের ছাপ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইংল্যান্ডে ১৮৮০ সালে ১ম আঙুলের ছাপ সনাক্তকরণ গবেষণা শুরু করেন দুই বাঙালি বিজ্ঞানী স্যার হেমচন্দ্র বোস ও কাজী আজিজুল হক। তাঁরা যৌথভাবে দুই বছর গবেষণার মাধ্যমে ১৮৮২ সালে আঙুলের ছাপ সনাক্তকরণের গবেষণায় সফল হন। তাঁরা দুজনই ১ম দুনিয়ার সামনে উপস্থাপন করেন যে, পৃথিবীতে কারো আঙুলের ছাপই অপর জনের আঙুলের ছাপের সঙ্গে মিলবে না।

এরপর ১৮৯৭ সালে কলকাতা শহরে স্যার এডওয়ার্ড হেনরী, খান বাহাদুর কাজী আজিজুল হক ও রায় বাহাদুর হেমচন্দ্র বসুর যৌথ উদ্যোগে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো’ স্থাপন করা হয়। সে বছর সরকারি ভাবে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো’ আঙুলের ছাপের সাহায্যে অপরাধী সনাক্তের অনুমতি পায়।

১৮৯৭ সালের পহেলা আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার এক চা বাগানের ম্যানেজার হৃদয়নাথ ঘোষকে তাঁরই বাংলোতে খুন হন। গলায় ধারালো ছুরির কাটা দাগ হৃদয়নাথ ঘোষের। খুনের ঘটনায় সন্দেহ তালিকায় প্রথমেই নাম আসে হৃদয়নাথের বাংলোর প্রাক্তন গৃহকর্মী রঞ্জন সিং এর। যে কী না এর আগেও চুরির ঘটনায় ৬ মাসের জেল খাটে। খুনের ঘটনার স্থলে পুলিশ রক্তাক্ত আঙুলের ছাপ দেখতে পায়- এবং তারা ধারণা করে পারে এটি হৃদয়নাথের আঙুলের ছাপ নং- বরং এটি খুনীর আঙুলের ছাপই হবে। আঙুলের ছাপের সাহায্য নিয়েই পুলিশ আটক করে রঞ্জন সিংকে। এটাই ছিলো বিশ্বে ১ম বারের মতো আঙুলের ছাপের সাহায্যে অপরাধী সনাক্তের ঘটনা। যদিও পরে আদালত হৃদয়নাথের খূনের মামলা থেকে রঞ্জন সিংকে খালাস প্রদান করে। কেননা তখনও আঙুলের ছাপের মাধ্যমে অপরাধী সনাক্ত বিষয়টি ভারতীয় আইনে সিদ্ধ ছিলো না।

এরপর থেকে বাঙালির এই আবিষ্কারকে কখোনোই পেছনে তাকাতে হয়নি- বাঙালির এই চমকপ্রদ আবিষ্কার বিশ্বজয় করে নিয়েছে। সূত্র- উইকিপিডিয়া

আরো পড়ুন- এলন মাস্কের সতর্কবাণী